রহস্য

বিজ্ঞানীরাও জায়গাগুলি দেখে অবাক

স্টোরি হাইলাইটস
  • স্টোন অফ দাভাস্কো (Stone of Davasko)
  • তিয়ানজি মাউন্টেন (Tianzi Mountain)
  • আব্রাহাম লেক (Abraham Lake)
  • গ্লোওয়ার্ম ক্যাভস নিউজিল্যান্ড (Glowworm Caves New Zealand)
  • লেক ন্যাট্রন তানজেনিয়া (Lake Natron Tanzania)
  • তারকইস আইস লেক (Turquoise Ice Lake)
  • ফ্লাই গিজার (Fly Geyser)
  • আইস কেভ আইসল্যান্ড (Ice Cave Iceland)
  • লেক হিলিয়ার অস্ট্রেলিয়া (Lake Hillier Australia)
  • ড্রাগন ব্লাড ট্রি (Dragon Blood Tree)

আমাদের পৃথিবী অনেক সুন্দর সুন্দর রহস্যে ভরা, এমন রহস্য যেগুলির সমাধান আজও কেউ করতে পারেনি। তাই আজ আপনাদের বলতে যাচ্ছি এমন কয়েকটি জায়গার ব্যাপারে যেগুলি হচ্ছে পুরোপুরি অদ্ভুত, এই জায়গাগুলি দেখলে সত্যি নয় বরং স্বপ্ন মনে হয়।

নাম্বার ১০- ড্রাগন ব্লাড ট্রি (Dragon Blood Tree)

Dracaena cinnabari - Wikipedia
ছবিঃ By Aussie Oc

আমরা সবাই যানি যে গাছের মধ্যে প্রাণ রয়েছে, তবে পৃথিবীতে এমনও কিছু মানুষ রয়েছে যারা এই কথাটিকে মিথ্যা প্রমান করার চেষ্টা করে। আমাদের পৃথিবীতে এমন একটা গাছ রয়েছে যে গাছটিকে যদি আপনি কাটেন তাহলে তার কান্ড থেকে রক্ত বের হয়। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? জি বন্ধুরা পৃথিবীতে এমনও গাছ আছে। গাছটির নাম “ড্রাগন ব্লাড ট্রি (Dragon Blood Tree)”। এই গাছগুলি ইয়ামিন দেশের শুকেটরা শহরে পাওয়া যায়। এই গাছগুলিকে যখনই কাটা হয় তখনই এগুলি থেকে রক্ত বের হয়। গাছগুলি দেখতে এতই  সুন্দর যে এই দৃশ্যটিকে দেখার জন্য প্রতিবছর অনেক মানুষ এই দেশটিতে ঘুরতে আসে। একবার যদি এই গাছটি হয়, তাহলে গাছটি প্রায় ছয়শ পঞ্চাশ বছর বেঁচে থাকে, গাছটি লম্বা হয় ১০ থেকে ১২ মিটার, প্রতি ১০ থেকে ১৫ বছরে মাত্র ১ মিটার বৃদ্ধি পায়। এমনিতেও এই গাছ থেকে নির্গত রস মানুষের শরীরের অনেক রোগের সমাধান করে। 

নাম্বার ৯- লেক হিলিয়ার অস্ট্রেলিয়া (Lake Hillier Australia)

Lake Hillier - Wikipedia
ছবিঃ By Aussie Oc

বলা হয় পানির কোন রং হয় না, তবে আজকে আপনাদের এমন একটি জলাশয়ের কথা বলতে যাচ্ছি যার রং গোলাপী। এই জলাশয়টি রয়েছে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়াতে। অনেকেই হয়তো জানেন না এটি কেন এমন রং? এই জলাশয়টি হচ্ছে অনেক ছোট, যেটার ক্ষেত্রফল ৬০০ মিটার। এই জলাশয়টিতে অবস্থিত ডোনালিনা সিলা নামক এক মাইক্রো অর্গাজম থাকে যার রং হচ্ছে গোলাপী। কেননা মাইক্রো অর্গাজম ও জলাশয়টিতে অবস্তিত লবন দুটি মিশে রঙটি লাল বানায়। এজন্যই এ জায়গার পানিকে দূর থেকে লাল বা গোলাপি দেখায়। এখানকার পানিতে অতিরিক্ত মাত্রায় লবন থাকা সত্ত্বেও এই পানিতে মানুষের জন্য সাঁতার কাটা সুরক্ষিত। আপনি এখানে নিশ্চিত মনে সাঁতার কাটতে পারবেন। এই জলাশয়টিকে Pink Lake নামেও জানা যায়। 

নাম্বার ৮- আইস কেভ আইসল্যান্ড (Ice Cave Iceland)

Glacier, Ice Cave, Iceland, Adventure, Cave, Cold, Ice
Ice Cave Iceland

আচ্ছা আপনি কি কখনো বরফের গুহা দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন তাহলে আসুন দেখে নেই বরফের গুহা কেমন হয়। আপনি যে গুহাটিকে দেখতে পাচ্ছেন এটি পুরোপুরি বরফ দিয়ে তৈরি, যা আইসল্যান্ডে অবস্থিত। এ গুহাটি লম্বায় ৩২০ ফুট এর চেয়েও বেশি। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পুরোপুরি বরফ দিয়ে তৈরি। বাস্তবে যদি এটা দেখা যায় তাহলে এটি হলো প্রকৃতির একটি অদ্ভুত সৃষ্টি। এই জায়গাটি এত বেশি ঠান্ডা যে কোন মানুষ এখানে বেশিক্ষন দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। এই গুহাটির রঙ কখনো সাদা আবার কখনো নীল দেখায় আর এতে করে এই গুহার সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়। প্রতি বছর অনেক মানুষ আইসল্যান্ডে আসে শুধুমাত্র এই গুহাটি দেখার জন্য। 

নাম্বার ৭- ফ্লাই গিজার (Fly Geyser)

Fly Geyser

ফ্লাই গিজার হচ্ছে পুরোপুরি একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। আপনি এখানে যে দৃশ্যটিকে দেখতে পাচ্ছেন এটি হলো আমেরিকার নেভাদার। এটার ওপর একটা গল্প রয়েছে, বলা হয়ে থাকে একজন চাষী পুরো শুস্ক ময়দানে চাষ করতে চাইছিল। যখন সেই চাষী খনন কাজ শুরু করেন তখন সেখান থেকে পানি বের হতে থাকে। কিন্তু সেই চাষীটির সাথে সবাই অবাক হয়ে যায়, সেখান থেকে যে পানি বের হয়েছিল সেই পানি ছিল ২০০ ডিগ্রির চেয়েও গরম। মানুষ ভয়ে সেখান থেকে চলে যায়। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই গরম পানি উপরে বের হয়ে আস্তে থাকে। এতে করে সেই গর্তটি সুন্দর একটি রূপ নিয়ে নেয়, যেটা দেখতে অনেক আকর্ষণীয় লাগে। এই গর্তটি থেকে যে পানি বের হয়ে আসে, সেই পানিতে প্রচুর পরিমানে দুর্লভ মিনারেলস রয়েছে। 

নাম্বার ৬- তারকইস আইস লেক (Turquoise Ice Lake)

Frozen Lake, Snow, Nature, Fantasy, Landscape, Light
Turquoise Ice Lake

তারকইস আইস লেক হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন মিঠা পানির হ্রদগুলির মধ্যে একটি। এটি রাশিয়ার সবচেয়ে ঠান্ডা জায়গা সাইবেরিয়াতে অবস্থিত। একটি অদ্ভুত বিষয় এটাকে পার্ল অফ রাশিয়া (Pearl of Russia) টাইটেলও দেওয়া হয়েছে। এই হ্রদটি যতটা গভীর ঠিক ততটাই রহস্যময়। আজ থেকে প্রায় ২৫ মিলিয়ন বছর আগে ভূগর্বস্থ টেকটোনিক প্লেট সরে যাওয়ার ফলে এই হ্রদটি তৈরি হয়েছিল। এর গভীরতা প্রায় ৬৪২ মিটার, আর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের দূরত্ব হচ্ছে প্রায় ৬৩৬ কিলোমিটার। এই হ্রদটিতে অনেক দুর্লভ প্রাণীও রয়েছে, যেগুলির মধ্যে অনেকগুলিকে এখনো মানুষ চোখে দেখেনি। এই হ্রদটির পানি এতটাই পরিষ্কার হয় যে বরফের নিচে ১৩০ ফিট পর্যন্ত আপনি সব দেখতে পাবেন। প্রতি বছর শীতকালে অনেক মানুষ এখানে ঘুরতে আসে, এখানে আইসকেটিং করে, আর এখানকার সুন্দর দৃশ্যের মজা নেয়। 

নাম্বার ৫- লেক ন্যাট্রন তানজেনিয়া (Lake Natron Tanzania)

Dangerously Saline Red Lake Natron in Tanzania - Places To See In Your  Lifetime
pandotrip

আমরা ছোটবেলায় অনেক গল্প শুনেছি, যেখানে একটি ব্যক্তি যা কিছু স্পর্শ করে তা সোনায় পরিণত হয়ে যায়। কিন্তু আপনি এমন কোন হ্রদের কথা শুনেছেন যার পানি কেউ স্পর্শ করলে সে পাথরে পরিনিত হয়ে যায়। উত্তর তানজানিয়ার নেট্রো লে তে এমন একটা হ্রদ রয়েছে যেটি দেখতে অনেক সুন্দর। তবে সে পানিতে যদি কেউ স্পর্শ করে তাহলে সেই জায়গাটিতে একটি পাথরের আস্তরণ পরে যায়, তবে সেটা হোক কোন মানুষ বা পশুপাখি। বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন হাইড্রোজেন ও এলকেলিন সল্ট এই পানিতে অনেক বেশি পরিমানে থাকার কারণে এমনটা ঘটে। এই লেকটির তাপমাত্রা প্রায় ৬০ ডিগ্রির চেয়েও বেশি হয়ে যায়। এছাড়াও এই পানিতে আরো অনেক রকমের মিনারেলস পাওয়া গেছে যেগুলি একটা ভোলকেনোতে থাকে। এই পানি দিয়েই মিসরবাসীরা এক সময় মমি তৈরি করতে ব্যবহার করতো। 

নাম্বার ৪- গ্লোওয়ার্ম ক্যাভস নিউজিল্যান্ড (Glowworm Caves New Zealand)

Discover Waitomo Glowworm Caves | New Zealand - YouTube
Glowworm Caves New Zealand

একবার ভেবে দেখুন কোন এক অন্ধকার গুহার ভিতরে তার ছাদটির ওপর হাজার হাজার নীল আলো দেখতে পাচ্ছেন, দৃশ্যটি দেখতে কেমন লাগবে। আসলে আপনি এইরকম একটি দৃশ্য নিউজিল্যান্ডে দেখতে পাবেন। এই গ্লোওয়ার্ম ক্যাভস নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডে অবস্থিত। এই গুহাটির ভিতরে অনেক বেশি পরিমানে গ্লোওয়ার্মস দেখতে পাওয়া যায় যেগুলি শুধুমাত্র পৃথিবীতে এই গুহাটিতেই পাওয়া যায়, যাদের শরীরে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে আলো নির্গত হয়। এই আলোটা নিজের শিকারকে আকর্ষিত করার জন্য তারা এটি নির্গত করে ও এদের ঘরগুলির আশেপাশে সিল্কের মতো জাল বোনে। এই জীবগুলি যত বেশি খিদেতে থাকে আলো ঠিক ততই বেড়ে যায়, আর সেজন্য এগুলিকে দেখার জন্য পর্যটকরা অনেক দূর দূর থেকে ছুটে আসে। বলা হয় ১৮শ শতকের শেষ দিকে এই গুহাটিকে প্রথমবার খোঁজা হয়েছিল।

নাম্বার ৩- আব্রাহাম লেক (Abraham Lake)

Abraham Lake, Mountain, Alberta
Abraham Lake

পৃথিবীতে যত সুন্দর সুন্দর জায়গা রয়েছে, সেখান থেকে আব্রাহাম লেকের নাম না নিলে কি হয়? এটি কেনেডিয়ান রকি মাউন্টেন্স এর ঠিক পাদদেশে অবস্থিত। এই হ্রদটিতে মিথেন ও বরফের ছোট বড় অনেক ধরণের বাবলস দেখতে পাওয়া যায়, যা দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। এই হ্রদে থাকতে থাকা ব্যাক্টেরিয়াগুলি যখন অন্য জীবের শিকার করে, তখন তাদের শরীর থেকে বাবলসগুলি নির্গত হয়। আর সেখানে ঠান্ডা পড়লেই সেই গ্যাসগুলি জমে যায় এতে করে এর সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়। ছোট বড় এই বাবলসগুলি এই হ্রদটির উপর থেকে একদম নিচ পর্যন্ত পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যায়। এগুলিকে দেখে মনে হয় যেন মিনারের মত হ্রদটির গভীরতা থেকে উপরে উঠে এসেছে। প্রতি বছর অনেক মানুষ এটিকে দেখতে আসে।  

নাম্বার ২- তিয়ানজি মাউন্টেন (Tianzi Mountain)

Tianzi Mountains: About China's mysterious Tianzi Mountains that featured  in Avatar movie | Times of India Travel
Indiatimes

চীনে এমন একটি জায়গা রয়েছে যে জায়গাটিকে পৃথিবীর ভূস্বর্গ বলা হয়। এই পর্বতগুলিকে প্রথম দেখলে আপনি আলাদা দুনিয়ায় চলে যাবেন। পুরো জায়গাটিতে মার্বেলের উঁচু উঁচু পাথর রয়েছে, সেগুলির মধ্যে সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের উচ্চতা সমুদ্র তল থেকে ১০০০ মিটার। এখানকার আরো একটি বিশেষত্ব হচ্ছে এখানকার আবহাওয়া। যেটি সময়ে সময়ে বদলে যায়, কখনো দেখতে পাবেন এখানে পরিষ্কার আকাশ আবার কখনো পুরো এলাকাটি মেঘে আচ্ছন্ন। এই জায়গাটি দেখতে পুরোপুরি সাইন্স ফিকেশন মুভির মতো লাগে, যেখানে মেঘের উপর অগণিত পাহাড় দেখতে পাওয়া যায়। এই জায়গাটা মানুষদের দেখবার জন্য চীন সরকার এখানে ক্যাবল কারের ব্যবস্থা করে রেখেছে।

নাম্বার ১- স্টোন অফ দাভাস্কো (Stone of Davasko)

10 Places on Earth Where Gravity Is Zero | Videos | fltimes.com
Stone of Davasko

আপনাদের মধ্যে অনেকেই পাহাড় থেকে বড় বড় পাথর পড়তে দেখেছেন। যদি আপনাকে এমন বলা হয় যে পৃথিবীতে এমন একটা পাথর রয়েছে যেটা পাহাড়ের ধারে এমনভাবে অবস্থিত যেন মনে হয় পাথরটি ভাসছে। এত সংকীর্ণ জায়গায় পাথরটি থাকা সত্ত্বেও এখান থেকে পরে যায় না। অনেক এক্সপার্টরা বলে থাকে যে পাথরটির উপরে নাকি গ্রাভেটি কাজ করে না। তাহলে আপনিকি এই কথাটি কি বিশ্বাস করবেন। এই পাথরটি আর্জেন্টিনায় অবস্থিত

আপনার মতামত দিন

Back to top button
%d bloggers like this: